• f
  • t
  • g+

শেয়াল-কাক-কোকিল

আপলোড : ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ মে ২০২১

কুমিল্লা প্রতিদিন :
  • দেলোয়ার হোসেন জাকির
image

ছবিঃ- সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন জাকির

কোকিল পাখি দেখতে খুবই সুন্দর। এদের গায়ের বরণ কালোর ওপরে উজ্জ্বল রঙের পোচ দেওয়া। বাঁকানো ঠোঁটের সবুজ রং। তাদের চোখটাও রক্তে লাল,লম্বা লেজ। কোকিল ডাকে উঁচু ও সুরেলা কণ্ঠে।

কাউয়া খুবই চালাক পাখি। কাউয়া নিজের চালাকি দিয়ে যা করে, নিজে মনে করে অন্যরা কিছুই বুঝে না বা দেখতে পায় না। এটা কাউয়ার উপলব্ধি।

আবার বনের ভেতর শেয়াল খুব বুদ্ধি খাটিয়ে বাস করে। শেয়াল খুব চালাক-চতুর আর দুষ্টুপ্রকৃতির একটি প্রাণি। যে কাউকে এক নিমিষেই বোকা বানাতে শেয়ালের জুড়ি নেই। সবাইকে বোকা বানিয়ে বিপদে ফেলে‘হো’‘হো’করে হেসে বেড়ায়। শেয়াল-কাক-কোকিলের চেয়েও ধুরন্ধর চালাক ‘মানুষ’। মানুষের চালাকি ফুটিয়ে তুলতে উপমা হিসেবে -শেয়াল-কাক-কোকিলকে জড়ানো হয়। যেমন ‘কাউয়া চালাক’-‘শেয়াল চালাক’‘কোকিল কন্ঠি’। কোকিলের সাথে কন্ঠ বুঝানো হয় কন্ঠের সৌন্দর্যে বা অতি কন্ঠির কারণে। এরকম "অতি চালাক মানুষের সাথে সম্পর্কে যেতে নেই, ভালোবাসতে নেই, সম্পর্কের জন্য একটু বোকাসোকা মানুষকেই বেছে নিতে হয়, বোকাসোকা ভালোবাসার মর্যাদা জানে। খুব বেশি চালাক মানুষ সব সময় প্রিয় মানুষ হয়ে থাকতে পারে না, এরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্পর্কে জড়ায় নিজের চালাকি দেখানোর জন্য। এদের কাজ অন্যকে বোকা বানিয়ে সব সময় নিজেকে বাহাদুর বানানো, এরা সকল ক্ষেত্রে সবজান্তা, ভাবগম্ভীর-ভাব নিয়ে থাকে সবসময়, তবে এদের ভাব বোকারা বুঝে, শুধু চুপ করে দেখে, কিছু বলে না। সাপ আর ব্যাঙের মুখে একসাথে চুমু খেতে নেই, সবজান্তা শেয়াল-কাউয়া চালাকরা এটা করে থাকে। এটা করতে শেয়ালের চালাকিকেই বেছে নেয় ধুরন্ধর চালাক মানুষগণ। শেয়ালের মতো নিজেকে বুদ্ধিমান বুঝাতে নানান জটিলতায় অন্যদের জড়িয়ে রাখেন। চালাক আর বুদ্ধিমান কিন্তু এক বিষয় নয়। চালাক মানুষটির সাথে সব সময় থাকা যায় না, দম বন্ধ হয়ে আসে, কিন্তু বুদ্ধিমান মানুষটির সাথে সারাজীবন কাটিয়ে দেয়া যায়, বেশিরভাগ চালাক মানুষের প্রেম, ভালোবাসা, সম্পর্ক বেশিদিন টিকে না, এরা সন্দেহ, অবিশ্বাস, অহংকার নিয়েই মগ্ন থাকে। তবে এরা ধুরন্ধর-দুষ্টু ও এক প্রকার ভন্ড প্রকৃতির চালাক ‘মানুষ’। একজন বুদ্ধিমান কিংবা বুদ্ধিমতী মানুষের চাইতে চালাক মানুষের বন্ধুর সংখ্যাও কম হয়, কারণ বেশিরভাগ মানুষই অতি চালাক মানুষকে পছন্দ করে না, চালাক শব্দটাই নেতিবাচক। যে যতবেশি চালাক, তার চিন্তাধারা ততবেশি নেতিবাচক হয়ে থাকে। ইতিবাচকরা এদের এড়িয়ে চলে, কিছু ক্ষেত্রে ভয়ও করে। বিপদে পড়ার ভয়। চালাক মানুষকেও ভালোবাসা যায়, কিন্তু ভালোবেসে পাশে পাওয়া যায় না, যখনই এদের চালাকি ধরে ফেলা যায়,তখনই এদের মুখোশের আড়ালে আসল রূপটা বেরিয়ে আসে,তারপর থেকে এরা কেটে পড়তে সময় নেয় না । একজন বোকাসোকা মানুষ অন্যের অনুভূতিকে মূল্য দেয়,ভাবে, কিন্তু চালাক মানুষ অনুভূতিকে মূল্য দেবে না,বরং অনুভূতিকে পুঁজি করে ব্যবহার করে ছেড়ে দেবে,এদের কাজই থাকে অন্যের অনুভূতি নিয়ে খেলা করা। এরা সব কিছু থেকে উর্ধ্বে অবস্থান করেন, অতি চালাক-অতি বুদ্ধিমান অতি জ্ঞানি এরা। বুদ্ধিমান মানুষ সহজে হেরে যায় না, ধরা খায় না, কিন্তু চালাক মানুষ চালাকি করতে করতে জীবনের একটা পর্যায়ে এসে এমনভাবে হেরে যায়,এমন ভাবে ধরা খায়,তখন আর কিছুই করার থাকে না,সারাজীবন হেরে যাওয়া জীবন নিয়েই কাটিয়ে দিতে হয়।

সাংবাদিক

দেলোয়ার হোসেন জাকির